বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪

পাকিস্তানে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ, ইন্টারনেট বন্ধ, ৫ জন নিহিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চলতি মাসের শুরুতে কারাগার থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেন, যাকে তিনি ‘চূড়ান্ত ডাক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর পর থেকে তার সমর্থকেরা রাজধানীর দিকে অগ্রসর হন। তাদের দাবি, বন্দি নেতাদের মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগ।  


পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ উত্তাল হয়ে উঠেছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের আন্দলোনের কারণে। 

ইমরান খানের মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী বাতিলের দাবিতে গত ২৪ নভেম্বর থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা করে ইমরান খানের  কর্মী-সমর্থকরা। আজ ২৬ শে নভেম্বর মঙ্গলবার তারা রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ডি-চকে পৌঁছেছেন।


তবে তাদের প্রতিহত করতে ইসলামাবাদে সংবিধানের ২৪৫ ধারা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লমবার্গ জানিয়েছে, সেনাদের ইমরানের পক্ষের বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কিন্তু এই কঠোর নির্দেশের পরও বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় থাকা ঠেকানো যায়নি।  সংঘর্ষে আজ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। 


বহিঃশক্তির আগ্রাসন এবং যুদ্ধের সময়ের জন্য সংবিধানে এই ধারা রাখা হয়েছে। কিন্তু পিটিআইয়ের বিক্ষোভকারীদের দমনে রাজধানী ইসলামাবাদে এই ধারা সক্রিয় করা হয়েছে।   সংবিধানের এই ধারা অনুযায়ী সেনাবাহিনী যা খুশি তাই করতে পারবে। এজন্য ভবিষ্যতে তাদের কোনা ধরনের বিচারিক ঝামেলায় পড়তে হবে না।//


পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‘কাউকে যেন ছাড়’ না দেওয়া হয়।


প্রায় ১০ দিন আগে ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু এই ধারা ভঙ্গ করেই ইমরান খানের সমর্থকরা রাজধানীতে প্রবেশ করেছেন। এরমধ্যে কয়েকশ মানুষ ডি-চকে প্রবেশ করছিলেন। তখন তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস এবং তাজা গুলি ছোড়া হয়। 


পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, সরকার বারবার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে পিটিআই নেতৃত্ব আলোচনা থেকে শুধু সময় নিয়েছে এবং রাজধানীর দিকে অগ্রসর হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসলামাবাদের আইজিকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি।  


এদিকে, সংঘর্ষের মধ্যেই মুলতান, রাজনপুর, গুজরাটসহ কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।  //


অন্যদিকে, ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবি এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর আজ মঙ্গলবার গাড়ি বহর নিয়ে ইসলামাবাদের ডি চকে সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।  


২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদসহ ১৫০টির বেশি মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তবে পিটিআই এই মামলা ও অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।  


আজ এই পর্যন্তই!


ভিডিওটিতে  লাইক দিন,share করুন এবং এইরকম ভিডিও আরো  পেতে চাইলে চ্যানেলটি subscribe করে আমাদের সাথে থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।


সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৪

বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আমেরিকা প্রবাসী
অধ্যাপক রুমি আহমেদ এর একটা পোস্ট
ফেসবুকে শেয়ার করেন, অধ্যাপক রুমি আমেরিকার একটা মেডিকেল  ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। 

ওই পোস্টে তিনি খালেদা জিয়ার সেনাকুঞ্জে উপস্থিতিকে মিরাকল বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে কারাগারে থাকাকালে তার সঠিক চিকিৎসা হয়নি, উল্টো ‘গরুর চিকিৎসা’ তার ওপর প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন এই অধ্যাপক।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ যেই চার-পাঁচ বছর জেলে ছিলেন- তখন তার ওপর গরুর চিকিৎসা হয়েছে, মানুষের চিকিৎসা হয়নি। উনি আধুনিক কোনো চিকিৎসা পাননি! যেই ওষুধ দেয়া হয়েছে- তাতে ওনার ডিজিজ কন্ট্রোলতো হয়ইনি, লিভার ও কিডনি ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে।’

ওই পোস্টে অধ্যাপক রুমি লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সেনাকুঞ্জ সফরের অনেক ভিডিও দেখলাম ! আমি যেহেতু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র- আমি ওনার ভিডিওগুলো দেখেছি অন্য দৃষ্টিভঙ্গি থেকে! প্রথমত তাকে দেখলাম হাসছেন এবং শ্বাস নেয়ার জন্য না থেমে এবং না হাপিয়ে গিয়ে মোটামুটি লম্বা সময় কথা বলতে পারছেন। আরেকটা বিষয় লক্ষ করলাম ওনার অক্সিজেন লাগছে না! এই পুরো ব্যাপারটা একটা মিরাকল ছাড়া আর কিছু না।’

‘এই কিছুদিন আগে ৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া ৬-৭ মাস টানা আইসিইউতে কাটালেন। ওনার কিডনি ফেইল করেছিল; হার্ট ফেইলিউর ছিল; লিভার পুরো ফেইল করেছে। লিভার ফেইলিউরের জীবনঘাতী কমপ্লিকেশন যা যা হতে পারে সবই তার ছিল- সারা শরীরে পানি, পায়ে পানি, পেটে পানি, ফুসফুসে পানি! প্রতিদিন পেট আর ফুসফুসের পাশ থেকে থেকে সুঁই ঢুকিয়ে লিটারকে লিটার পানি ড্রেইন করতে হতো। তার দুই চেস্টে চেস্ট টিউব ঢোকানো ছিল কন্টিনিউয়াস পানি ড্রেইন করানোর জন্য। ঘাড়ের মধ্যে বিশাল মোটা ডায়ালাইসিস লাইন ছিল। আরো কিছু কঠিন সমস্যা ছিল যেমন রিউমাটয়েড আর্থরাইটিস। //

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে এডভান্সড আইসিইউগুলোতে আমি  গত ২০ বছর ধরে কাজ করছি । ৮০ বছর বয়সি একজন মানুষ অ্যাডভান্সড Completing আর্থ্রাইটিসসহ যার লিভার ফেইল করেছে- কিডনি ফেইল করেছে; সিভিয়ার পালমোনারি হাইপারটেনশন আছে- এইদেশে আমরা আশা ছেড়ে দিতাম! কারণ ৮০ বছর বয়সি একজন মানুষের লিভার ফেইলিউর একটা ওয়ানওয়ে জার্নি। বাকি সব অর্গান ডোমিনোর মতো ফেইল করা শুরু করে। রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।’

মিসেস খালেদা জিয়া যে ৭ মাস আইসিইউ থেকে  সেনাকুঞ্জে এসে সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন- আবারও বলছি এটা মেডিকেল মিরাকল। ওপরওয়ালা কোথাও কেউ নিশ্চয় আছেন; যিনি সম্ভব - অসম্ভবের কারিগর- উনিই হয়তো চেয়েছেন অসম্ভবের ঘড়ির কাটাটাকে হাত দিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে। কেউ ওনাকে এই দিনটা দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন! ।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে অধ্যাপক রুমি আরও লিখেছেন, ‘আপনারা কেউ কি ওনার হাত দুটো খেয়াল করেছেন? কীভাবে বেঁকে গিয়েছে? আমরা মেডিকেল কলেজে পড়েছি সোয়ান নেক ডিফর্মিটি; বাটোনেআর ডিফর্মিটি, গত শতব্দীর টার্ম! এই শতাব্দীর মেডিকেল স্টুডেন্টরা এগুলো খুব একটা দেখে না এখন। রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসের চিকিৎসা না হলে বার্ন্ট আউট হয়ে যায়। অ্যাডভান্সড রিউমাটোয়েড আর্থরাইটিসের শেষ পর্যায়ে গিয়ে হাতগুলো এভাবে শক্ত হয়ে কুঁকড়ে যায়। দুটো হাতই শুধু অচল হয় না অবর্ণনীয় যন্ত্রণা হয়, হাইডোজ ইমিউনিটি সাপ্রেস করা মেডিসিনে না থাকলে।’//

উনি আরও লিখেছেন, ‘আপনি কি খেয়াল করেছেন উনি পা লম্বা করে হুইল চেয়ারে বসে ছিলেন। উনি পা ভাঁজ করতে পারেন না! ওনাকে স্ট্র্যাপ দিয়ে হুইল চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল, যাতে পড়ে না যান। আমি খেয়াল করছিলাম ওনার ছোট পুত্রবধূ প্রতিটা মুহূর্ত শ্বাশুড়ির দিকে চোখ রাখছেন- কখন কি হয়ে যায়! একটা জীবন চিন্তা করুনতো? অবর্ণনীয় ব্যাথার কারণে পা ভাঁজ করা যায় না- স্টিফ হয়ে গিয়েছে- হাত দুটো অচল! পুরো পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে ওনাকে! হ্যাঁ, আমি বলছি ‘দেয়া হয়েছে’, এমনি এমনি সব হয়নি!’

আগে ওনাকে যখন টিভিতে দেখেছি- তখনতো এত খারাপ অবস্থা ছিল না। উনি এই হাত দিয়ে করমর্দন করতেন- সারাদিন ফাইল স্বাক্ষর করতেন! একটু খুঁড়িয়ে হলেও হাঁটতে পারতেন। ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৯ ঘণ্টা ক্যাম্পেইন করেছেন- সারারাত পথসভা করেছেন। আজকাল আমরা এই ধরনের রিউমাটয়েড ডিফর্মিটি খুব কম দেখি। কারণ আজকাল রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসের অনেক ডিজিজ মোডিফাইয়িং ওষুধ আছে। এই ওষুধে রোগ কন্ট্রোল করে রাখা যায়! একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান রিউমাটয়েড আরথ্রাটিসকে এখন আর ওই পর্যায়ে পৌঁছতে দেয় না।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) যেই চার-পাঁচ বছর জেলে ছিলেন- তখন তার ওপর গরুর চিকিৎসা হয়েছে, মানুষের চিকিৎসা হয়নি। উনি আধুনিক কোনো চিকিৎসা পাননি! যেই ওষুধ দেয়া হয়েছে- তাতে ওনার ডিজিজ কন্ট্রোলতো হয়ইনি, লিভার ও কিডনি ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে।’
//
 
অধ্যাপক রুমির মতে, ২০০৭ এর পর থেকে জিয়া পরিবারের ওপর নানা অত্যাচার-নির্যাতনের ঝড় বয়ে গেছে। তিনি লিখেছেন, ‘২০০৭ এর পর থেকে জিয়া পরিবারের ওপর যা গিয়েছে, তা ট্র্যাজিক মহাকাব্য। বড় ছেলেকে মেরে কোমর ভেঙে দেয়া হয়েছিল, তার দশ বছর লেগেছে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে। আরেক ছেলের ওপর ( যে রাজনীতির র-এর সঙ্গেও জড়িত ছিল না) তার ওপর কি ঝড় গিয়েছে আল্লাই জানে। ছাড়া পাবার কিছুদিন পর ৪৫ বছরের সুস্থ তরুণ ক্রিকেট প্লেয়ার মানুষটা ধুম করে মরে গেলেন। এই কাজগুলো যারা করেছেন, যাদের সিদ্ধান্তে হয়েছে, যারা এক্সিকিউট করছেন, তাদের জিয়া পরিবার ক্ষমা করলেও, এই দেশের একটা বিশাল অংশের মানুষ কোনোদিনই ক্ষমা করবে না!’

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে যাওয়ার এখনই প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

তার মতে, ‘খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমার মতে এখন পলিটিক্যাল ও পারিবারিক ডিসিশন; মেডিকেল ডিসিশন না। ওনার যে মেডিকেল টিম- তাদের অনেককে আমি চিনি। ওদের ওপর আমার শতভাগ আস্থা আছে। আমি মনে করি, উনারাই যথেষ্ট। ওনাকে (খালেদা জিয়া) টেনে হিঁচড়ে বিদেশে নেবার কোনো যুক্তি বা মেডিকেল নেসিসিটি আমি দেখি না। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। ওনার পরিবার আরো ভালো বুঝবেন।’

পরিশেষে অধ্যাপক রুমি খালেদা জিয়ার দীর্ঘ জীবন কামনা করেন। পাশাপাশি নিজ বাড়িতে রেখে তার চিকিৎসা কাজ চালিয়ে নেয়া এবং তাকে টানা-হিঁচড়া না করারও আহ্বান জানান তিনি। 

আজ এই পর্যন্তই!

ভিডিওটিতে  লাইক দিন,share করুন এবং এইরকম ভিডিও আরো  পেতে চাইলে চ্যানেলটি subscribe করে আমাদের সাথে থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।


শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৪

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তান স্কলারশিপ দিবে

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ স্কলারশিপে ১০০ বাংলাদেশিকে পাকিস্তানে পড়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টির অনুমোদন দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর— সৌহার্দের অংশ হিসেবে ১০০ বাংলাদেশিকে শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এতে করে বাংলাদেশিদের পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পথ সুগম হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্কলারশিপ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব পোর্টালে যুক্ত করবে।//

@@পাকিস্তানে কিছু কিছু ভালো ভালো ইউনিভার্সিটি আছে যেখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারে,
বিশ্ব রেংকিং এ তারা ঢাকা   ইউনিভার্সিটির চেয়ে এগিয়ে আছে। পাকিস্তানের কিছু  ভালো ইউনিভার্সিটি নাম বলা হলো এবং যারা স্কলারশিপ দেয়।

কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয় ... ১৯৬৭  সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিভার্সিটিতে  পিএইচডি এবং এমফিল ডিগ্রির জন্য শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রমের সুযোগ আছে।

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত,  পাকিস্তানের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম  বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউনিভার্সিটি অফ এগ্রিকালচার,যা ফয়সালাবাদে অবস্থিত।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্সে এন্ড টেকনোলজি (NUST)  ইসলামাবাদে অবস্থিত, পাকিস্তানের একটি বিশিষ্ট পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়।

আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়।  স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আগা খান বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রথম  পছন্দ। 

বাহাউদ্দীন জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৪ সালে মুলতানে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু এটির নামকরণ করা হয়েছিল একজন সুফি সাধক হযরত বাহা-উদ-দিন জাকারিয়ার নামে। 

লাহোর ইউনিভার্সিটি

করাচি ইউনিভার্সিটি

University of  Management and Technology

University of Peshawar //

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আগেও শিক্ষা বিষয়ক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ছিল। তবে অনেকদিন ধরে তা বন্ধ ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের মধ্যে আবারও এই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে। 

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনার দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে  কাজ করে যাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে অন্যান্য খাতেও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের করাচি থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে এসে নোঙর করে একটি পণ্যবাহী জাহাজ।পাকিস্তান চাইতেছে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হোক।

আজ এই পর্যন্তই!

ভিডিওটিতে  লাইক দিন,share করুন এবং এইরকম ভিডিও আরো  পেতে চাইলে চ্যানেলটি subscribe করে আমাদের সাথে থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।


বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের উপর থেকে কেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে?

সম্প্রতি উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের ওপর আরোপিত সব সম্পর্কের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৫ সালের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয় এবং সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


এর ফলে পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে যেতে পারবে। পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ নানা বিষয়ে মতবিনিময় করতে পারবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থাৎ ২০১৫ সালের আগের সেই স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  ও পাকিস্তান।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা গণমাধ্যমকে বলেন, এক সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছিল। আমাদের যেহেতু এটি একাডেমিক প্রতিষ্ঠান, অনেকে স্কলারশিপ নিয়ে কিংবা কনফারেন্সে যোগ দিতে যেতে চান। সে দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় আমরা সভায় আলোচনা করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিষয়টি পুরোটাই একাডেমিক, এর বাইরে কোনো কিছু নেই।


এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ প্রায় এক দশক পর উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। //

পাকিস্তানে কিছু কিছু ভালো ভালো ইউনিভার্সিটি আছে যেখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারে, 

বিশ্ব রেংকিং এ তারা ঢাকা   ইউনিভার্সিটির চেয়ে এগিয়ে আছে। পাকিস্তানের সবচেয়ে ভালো ইউনিভার্সিটি হল :


কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয় ... ১৯৬৭  সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিভার্সিটিতে  পিএইচডি এবং এমফিল ডিগ্রির জন্য শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রমের সুযোগ আছে। 


পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত,  পাকিস্তানের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম  বিশ্ববিদ্যালয়। 


ইউনিভার্সিটি অফ এগ্রিকালচার,যা ফয়সালাবাদে অবস্থিত। 


ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্সে এন্ড টেকনোলজি (NUST)  ইসলামাবাদে অবস্থিত, পাকিস্তানের একটি বিশিষ্ট পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়।


আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়।  স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আগা খান বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রথম  পছন্দ।  


বাহাউদ্দীন জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৪ সালে মুলতানে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু এটির নামকরণ করা হয়েছিল একজন সুফি সাধক হযরত বাহা-উদ-দিন জাকারিয়ার নামে।  


লাহোর ইউনিভার্সিটি 


কেন পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল? 


২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আ স ম আরেফিন সিদ্দিক প্রশাসন। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা সমঝোতা স্মারক নতুন করে সই হবে না এবং যেগুলো আছে, সেগুলোও স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি ১৯৫ পাকিস্তানির বিচার করার জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো ও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে সিন্ডিকেট সভা থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।


সেসময় সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত শেষে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছিলেন, পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাত্রি থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে এ দেশে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা চালিয়ে তারা অস্বীকার করেছে। যতদিন পর্যন্ত তারা গণহত্যা, হত্যা ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করবে না, ততদিন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে ঢাবি কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখবে না। নতুন করে আমাদের কোনো শিক্ষার্থী পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবেন না। একইভাবে তাদের কোনো ছাত্রও আমরা নেব না।


আজ এই পর্যন্তই!


ভিডিওটিতে  লাইক দিন,share করুন এবং এইরকম ভিডিও আরো  পেতে চাইলে চ্যানেলটি subscribe করে আমাদের সাথে থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।


বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৪

জমজমের পানি কেন পান করবেন? জমজম কূপের পানি পানের সময় যা যা করতে বলেছে সৌদি আরব

আসসালামু আলাইকুম,
জমজম কূপের পানি পান নিয়ে  সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়  যা যা করতে বলেছে তা জানার আগে, জমজমের পানির ব্যাপারে কিছু হাদিস জেনে নেই।

নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন , জমজমের পানি যেই নিয়তে পান করা হয় সেই নিয়ত হাছেল হয়। অন্য হাদীছে আছে, জমজমের পানি  পেট ভরার জন্য খেলে পেট ভরে আর তৃষ্ণা নিবারণের জন্য খেলে পিপাসা মিটে। উহা জিব্রাঈলের খেদমত, ইছমাঈলের রাস্তা। খেদমত অর্থ জিব্রাঈলের চেষ্টায় উহা বাহির হয়েছে।  নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন আর সাধারণ পানি বসে পান করতেন।

বিখ্যাত হাদিছ সম্রাট  ছুফিয়ান বিন্ উয়াইনার খেদমতে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হুজুর! জমজমের পানি যে নিয়তে খাওয়া হয় সেই নিয়ত পুরা হয়- এই হাদীছ কি সত্য? তিনি বলেন, হাঁ সত্য। লোকটি বলল, আমি
এই নিয়তে পান করেছি যে, আপনি আমাকে ২০০ শত হাদীছ শুনাবেন। তিনি বললেন, আচ্ছা বস। এই বলে তিনি দুই শত হাদীছ শুনিয়ে দিলেন।

হজরত ওমর (রাঃ) জমজমের পানি পান করতে করতে বলেন, ইয়া আল্লাহ! আমি কেয়ামতের দিন পিপাসা নিবারণের জন্য পান করতেছি।//

হাদীছে আছে, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্বের দিন জমজমের পানি খুব বেশী বেশী পান করেছেন এবং বলেছেন, আমার দেখাদেখি সকলেই শুরু করবে, নচেৎ আমি বালতি ভরে পান করতাম।
অন্য হাদিসে আছে, তিনি জমজমের পানি
চোখে দেন এবং মাথায় ঢালেন। নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আরও বলেন, আমাদের এবং মোনাফেকদের মধ্যে পার্থক্য হল, আমরা জমজমের পানি পেট ভরিয়া পান করি আর তারা সাধারণভাবে পান করে।

হজরত মা আয়েশা (রাঃ) জমজমের পানি তাদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন এবং বলতেন, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও  জমজমের পানি সঙ্গে নিয়া যেতেন এবং রুগীদের উপর ছিটিয়ে দিতেন। তাহনীকের সময় অর্থাৎ বাচ্চার মুখের প্রথম খাদ্য খাওয়ানোর সময় হজরত হাছান হোসেনের মুখে জমজমের পানি দেয়া হয়।

মে'রাজের রাত্রে হজতর জিব্রাইল (আঃ) হুজুরের ছিনা চাক করে অর্থাৎ ছিনা ফেড়ে কলব জমজমের পানি দ্বারা ধুইয়েছিলেন। অথচ জিব্রাঈল (আঃ) বেহেশত হতে বোরাক, তশতরী আরও কতকিছু এনেছিলেন। ইচ্ছা করলে পানিও আনতে পারতেন। কিন্তু আনেননি।  ইহা হতে বড় ফজীলত আর কি হতে পারে?

হজরত ইবনে আব্বাছ (রাঃ) বলেন, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম   জমজমের পানি পান করে এই দোয়া পড়তেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَزِرْنَا وَاسْعًا وَشِفَاء مِنْ

আল্লাহম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিয়ান ওয়া রিজকান ওয়াসিয়ান ওয়া শিফাআন মিন কুল্লি দাঈ
كُلِّ دَاءٍ - "
অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমি আপনার  নিকট উপকারী এলেম, প্রশস্ত রিজিক ও যাবতীয় রোগ হতে শেফা চাইতেছি। //

হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বলেছে, কাবা ও মসজিদে নববীতে যখন কেউ জমজমের পানি করবেন তারা যেন অবশ্যই আল্লাহর নাম স্মরণ করেন, ডান হাতে পানি পান করেন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখেন।

তারা আরও বলেছে, এই পানি পানের সময় খেয়াল রাখতে হবে এটি যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে না পড়ে। এছাড়া জমজমের পানির ট্যাপ ছেড়ে অযু না করতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়
পানি পানের পর কাপ নির্দিষ্ট স্থানে রাখা, ঠেলাঠেলি না করা, ভীড় এড়িয়ে চলা ও ভদ্রতা বজায় রাখার জন্যও মুসল্লিদের অনুরোধ করেছে।

আজ এই পর্যন্তই!

ভিডিওটিতে  লাইক দিন,share করুন এবং এইরকম ভিডিও আরো  পেতে চাইলে চ্যানেলটি subscribe করে আমাদের সাথে থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।


রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৪

ড.ইউনুস বিচারের জন্য হাসিনাকে ফেরত আনার ব্যাপারে যা বললেন

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনুস বলেন, জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের প্রতিটি হত্যার বিচার করা হবে।

গণআন্দোলনের মুখে পলায়ন  করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিটি হত্যার বিচার আমরা করবই। জুলাই-অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি, তার কাজও বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকেও আমরা ভারত থেকে ফেরত চাইব।”


কেবল দেশেই নয়, গুম, খুন ও জুলাই-অগাস্ট গণহত্যার সাথে জড়িতদের আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের সঙ্গে আমার এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে।”


জাতির উদ্দেশে তার চতুর্থ ভাষণে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত সব অপকর্মের বিচার করার কথাও বলেন ইউনূস।//


তিনি বলেন, “কেবল জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডই নয়, আমরা গত ১৫ বছরে সব অপকর্মের বিচার করব। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে এই সময়ে। আমরা গুমের তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছি। কমিশন প্রধান আমাকে জানিয়েছেন, অক্টোবর পর্যন্ত তারা ১,৬০০ গুমের তথ্য পেয়েছেন। তাদের ধারণা এই সংখ্যা ৩,৫০০ ছাড়িয়ে যাবে।”


পরে আক্রান্ত হতে পারেন, এই ভয়ে অনেকে কমিশনের কাছে গুমের অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।

 

তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোকে বলেন,

“আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা দ্বিধাহীন চিত্তে কমিশনকে আপনাদের অভিযোগ জানান। কারো সাধ্য নেই আপনাদের গায়ে আবার হাত দেয়,” অভয় দিয়ে বলেন তিনি।


গুম কমিশনে যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে, তার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “গুম কমিশনের সদস্যদের কাছে ভুক্তভোগীদের যে বিবরণ আমরা পেয়েছি তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। জুলাই-অগাস্টের বিপ্লবের পর ছাত্রছাত্রীরা শহর বন্দরের দেয়ালে-দেয়ালে তাদের মনের কথা লিখেছে। তাদেরও আগে যারা গুমের শিকার হয়েছে, প্রতিটি গোপন আস্তানার দেয়ালে-দেয়ালে তারা লিখে গেছেন তাদের কষ্টের মর্মস্পর্শী বিবরণ। তাদের এসব কষ্টের কথা শুনে আমাদের হৃদয় কেঁপে উঠেছে।//


“এসবের সঙ্গে জড়িতদের আমরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবই। অভিযুক্ত যতই শক্তিশালী হোক, যে বাহিনীরই হোক তাকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 


ইউনূস বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কোনো সদস্য কিংবা অন্য কেউ যাতে হত্যা, গুমসহ এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য আমরা গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছি। আপনারা দেখেছেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফলকার তুর্ক সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন।


মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ”বিপ্লব চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-শ্রমিক জনতার শহীদী মৃত্যু হয়। সরকার প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য অত্যন্ত যত্নের সাথে জোগাড় করছে। এই বিপ্লবে আহত হয়েছে ১৯,৯৩১ জন। আহতদের জন্য ঢাকার ১৩টি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”


“জাতিসংঘ জুলাই-অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারা আমাদেরকে তাদের রিপোর্ট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অতীতের গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত কাজেও আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। মানবাধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করতে ঢাকায় তারা তাদের জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।”


আজ এই পর্যন্তই!


ভিডিওটিতে  লাইক দিন,share করুন এবং এইরকম ভিডিও আরো  পেতে চাইলে চ্যানেলটি subscribe করে আমাদের সাথে থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।


শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৪

নবী করিম (সা:) এর রওজা জিয়ারতেও সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা

নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,"যে ব্যক্তি আমার জিয়ারত করল তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে গেল। "


নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আমার জিয়ারতের জন্য আসল, এতে তার অন্য কোন নিয়ত ছিল না, তার জন্য সুপারিশ করা আমার উপরে জরুরী হয়ে গেল। ""


পৃথিবীতে এমন কে আছে যার জন্য হাশরের ময়দানের মহাসংকটের দিন নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুপারিশের প্রয়োজন হবে না। আর কত বড় ভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যার জন্য  দয়ার নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশের জিম্মাদারী নিয়েছেন। //


হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম  সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, "আমার মৃত্যুর পর যে আমার জিয়ারত করিল সে যেন জীবিত অবস্থায়  আমার সাথে  জিয়ারত করল।" 


নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, "যে ব্যক্তি হজ্ব করল আর আমার জিয়ারত  করল না  সে যেন আমার উপর জুলুম করল। "


আসলে নবী করিম  সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এর তার উম্মতের জন্য যে অপরিসীম দয়া ও এহসান,  তা আমরা চিন্তাও করতে পারব না তাই ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে হাজির না হয়,এর চেয়ে জুলুমের কথা আর কি হতে পারে?


হযরত আনাস রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরতের সময় মক্কা ছেড়ে  গেলেন,তখন মক্কার যাবতীয় বস্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল। আর যখন মদিনা পৌছলেন তখন সেখানকার যাবতীয় বস্তু  আলোকিত হয়ে গেল। 

নবী করিম  সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন মদিনা আমার ঘর, সেখানে আমার কবর হবে। //


একজন মুসলমান পৃথিবীর যেই প্রান্তেই থাকুক না কেন, তার ভিতরে নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য মহব্বত ভালোবাসা আছে। এবং প্রত্যেকেই এই স্বপ্ন লালন করেন জীবনে একবার হলেও তার রওজা জিয়ারত করবেন। সেই রওজা জিয়ারতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরব। রওজা জিয়ারতে এই নতুন নির্দেশনায় কোটি কোটি মুসলমানের কষ্টের কারন হবে। 


সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের গত শুক্রবারের ঘোষণায় বলা হয়, রওজা শরিফে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়ম কমানোর লক্ষ্যে কিছু  নিয়ম চালু করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগাম অনুমতি ছাড়া রওজা শরিফে প্রবেশ করা যাবে না। আগের মতো অনুমতি ছাড়া প্রবেশের বিষয়টি আর বৈধ থাকবে না।

অর্থাৎ রওজা শরিফ জিয়ারতের জন্য আগাম অনুমতি নিতে হবে। জিয়ারতের সময় এক ঘণ্টায় সীমিত রাখা হবে। এবং বছরে একবারের বেশি রওজা শরিফ পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ মনে করেন আপনি দুবাইতে চাকরি করেন বছরে ২-৩ বার মদিনায় যান, কিন্তু নবীর রওজা জিয়ারত করতে পারবেন মাত্র একবার। কত বড় বদ নসীব। আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আমি মদিনায় ১২-১৪ দিন ছিলাম যেদিন আমার মদিনা থেকে চলে আসার দিন ছিল আমি নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা জিয়ারত করার পরে দোয়ায় এত কেদেছিলাম যা আমার কোন আত্নীয়র মৃত্যুতে কাদি নি।? //

সৌদি সরকারের রওজা জিয়ারত নতুন  নির্দেশনা কি? 


সৌদি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি মুসলিম রওজা শরিফ জিয়ারত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মতে, বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও ভ্রমণ সহজলভ্য হওয়ায় রওজা শরিফ জিয়ারতকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।


তাদের বক্তব্য হলো  অতিরিক্ত ভিড় এবং প্রশাসনিক জটিলতা মোকাবিলা করতে গিয়ে সৌদি সরকার বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনা সেই সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বলছে, আমরা চাই প্রত্যেক মুসলিম যেন সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে রওজা শরিফ জিয়ারত করতে পারেন। এই নিয়ম শুধু ভিড় কমানো নয়, বরং জিয়ারতের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করার জন্য।


সৌদি সরকারের এই নতুন নির্দেশনা মুসলিম বিশ্বের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকে এ নিয়মকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের  মনে প্রশ্ন জেগেছে কেন বছরে একবারের বেশি জিয়ারতের সুযোগ দেয়া হলো না। 


আমার মনে হয় সৌদি সরকার পর্যটক বাড়াবার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে আয় বেশি হয়। ওরা এখন খালি ধান্দা করে কিভাবে বেশি আয় হবে। 


আজ এই পর্যন্তই!


ভিডিওটিতে  লাইক দিন,share করুন এবং এইরকম ভিডিও আরো  পেতে চাইলে চ্যানেলটি subscribe করে আমাদের সাথে থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।